ঢাকা আজ- | বঙ্গাব্দ

তিস্তা প্রকল্পে চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

  • প্রকাশের সময় : Jun 25, 2026 ইং
তিস্তা প্রকল্পে চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ছবির ক্যাপশন: তিস্তা প্রকল্পে চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
ad728
তিস্তা প্রকল্পে চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদীভাঙন প্রতিরোধ, আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা, নৌ-নেভিগেশন উন্নয়ন এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নদীকেন্দ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের চলমান নদী খনন কর্মসূচির বিষয়ও তুলে ধরেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহায়তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইং বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, নদী খনন ও প্রশস্তকরণ, আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার প্রায় দুই কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে এবং বর্ষাকালে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পটির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে আনুমানিক ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চীনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, আর বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হবে।

একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এসব চুক্তি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং তিস্তা প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে গতি আনবে।



নিউজটি আপডেট করেছেন : TechBeat

কমেন্ট বক্স