প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে স্বাবলম্বির পথে জুয়েল, পাশে আল মামুন ফাউন্ডেশন।
যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজী জুয়েল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সংগ্রাম করে আসছিলেন। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় সহায়তার চেষ্টা করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে তিনি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত-এর কাছে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরে সহায়তা প্রার্থনা করেন।
এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আল মামুন ফাউন্ডেশন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে জুয়েলের পাশে দাঁড়ায়। ফাউন্ডেশনটির উদ্যোগে তাকে একটি চায়ের দোকান স্থাপন করে দেওয়া হয়, যাতে তিনি নিজের শ্রমে উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এটি শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তার আত্মসম্মান ও স্বাধীন জীবনের পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
এছাড়াও জুয়েলের পরিবারের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তার ছোট মেয়ের শিক্ষার জন্য বই ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুটির পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রোববার জুয়েলের নতুন চায়ের দোকানের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জুয়েলের হাতে দোকানের দায়িত্ব তুলে দেন এবং তাকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মশিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইকরাম হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, আল মামুন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আল মামুন শাওন, আহ্বায়ক তানভীর হায়দার তমাল, সদস্য সচিব শাকির আহমেদ শুভ্র, যুগ্ম আহ্বায়ক পাপ্পু জামানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জানান, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা বিশ্বাস করেন, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবন পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, সামান্য সহায়তাও একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে—যেখানে দান নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।

TechBeat