বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সেমিকন্ডাক্টর সামিট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তি আমদানিকারক বা ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উৎপাদনের সক্ষম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এ খাতে দেশীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয় অর্জন করা সম্ভব হবে। তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশ ঘটলে দেশে উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, প্রযুক্তি খাতে গবেষণা বাড়বে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের লক্ষ্য, ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশকে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে একটি প্রতিযোগিতামূলক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), চিপ ডিজাইন এবং উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

TechBeat